জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক জোয়ার ভাঁটা (Jowar Bhanta) এখন টানা চর্চায় দর্শকমহলে। গল্পে একের পর এক নতুন মোড় আসায় দর্শকদের আগ্রহও বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি ধারাবাহিকে দেখা যায়, ঋষির ছদ্মবেশ নিয়ে নিশাকে মারতে গিয়েছিল সায়ন্তন। প্রথমে সবাই ভেবেছিল ঘটনাটা ঋষিই ঘটিয়েছে, কিন্তু পরে সামনে আসে আসল সত্যি। যদিও সন্দেহ তৈরি হলেও উজি সায়ন্তনকে হাতেনাতে ধরতে পারেনি। সেই সময় থেকেই দর্শকরা বুঝতে শুরু করেন, সায়ন্তনের চরিত্রের পিছনে বড় কোনও পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যেই খেয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে। আর সেই সম্পর্কের দিকটাই এখন দর্শকদের সবচেয়ে বেশি অবাক করছে। কারণ খেয়া এমনভাবে সায়ন্তনের প্রেমে ডুবে গিয়েছে যে নিজের কাছের মানুষদের কথাও আর শুনতে চাইছে না।
গল্পে দেখানো হয়েছে, দুর্জয় ঘোষাল উজি ও নিশাকে নিজের পথের সবচেয়ে বড় বাধা মনে করে। আর সেই কারণেই প্রতিশোধ নিতে খেয়ার জীবনে সায়ন্তনকে পাঠানো হয়। পরিকল্পনা ছিল, ধীরে ধীরে খেয়ার বিশ্বাস জিতে তাকে ব্যবহার করবে সায়ন্তন। কিন্তু দর্শকদের মতে, এখানে পুরো খেলাটাই উল্টো হয়ে গিয়েছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন, “এই নিয়ে ঠিক তিনবার। হ্যাঁ, তিনবারই খেয়া নিজে থেকেই জড়িয়ে ধরল সায়ন্তনকে।” দর্শকদের মতে, সায়ন্তনের খুব বেশি চেষ্টা পর্যন্ত করতে হয়নি। কেউ লিখেছেন, “না কোনও বাড়াবাড়ি রোম্যান্টিক লাইন, না বিশেষ কোনও নাটকীয় চেষ্টা। বরং খেয়াই সবকিছু নিজের হাতে তুলে নিল।”
এমনকি খেয়াই নাকি প্রথমে আবেগ দেখিয়ে কাছে এসেছে। দর্শকদের মজার মন্তব্য, “আমি কি সত্যিই কাউকে পটাতে এসেছি, নাকি আমাকেই পটানো হচ্ছে?” এই সংলাপ যেন এখন সায়ন্তনের মনের কথাই হয়ে উঠেছে। খেয়ার এই বদলে যাওয়া আচরণ নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি বিরক্ত দর্শকরা। কারণ যে মেয়ে একসময় উজিকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারত না, সেই এখন বৌমণিকেই ভুল বুঝছে। ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে, খেয়া বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে গত ১৫ বছর ধরে সে মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিল এবং সেই অবস্থা থেকে তাকে বের করে এনেছে সায়ন্তন। অথচ বাস্তবে খেয়াকে স্বাভাবিক এনেছে উজিই।
কিন্তু প্রেমে অন্ধ হয়ে সেই সত্যিটাই ভুলে যাচ্ছে খেয়া। উজি যখনই সায়ন্তনের অতীত নিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে বা সন্দেহ প্রকাশ করছে, তখনই খেয়া আরও রেগে যাচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে খেয়া নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরাও খেয়ার জেদের কাছে হার মেনে বিয়েতে রাজি হয়ে যান। এই পরিস্থিতির পর থেকেই দর্শকদের একাংশ উল্টো প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছেন। অনেকেই বলছেন, খেয়া এখন এতটাই বদলে গিয়েছে যে উজির কোনও কথাই আর বিশ্বাস করছে না। বরং একজন অপরাধীর উপর ভরসা করে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষদেরই আঘাত করছে। সেই কারণেই এবার দর্শকদের অনেকেই চাইছেন, উজি যেন কোনও ভাবেই খেয়া ও সায়ন্তনের বিয়ে আটকাতে না পারে।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতির চক্করে এবার যেতে বসেছে সাধের প্রা’ণটাই! সায়নীর মাথার দাম এক কোটি ধার্য হওয়ার পরেই এবার প্রা’ণনা’শের হুম’কি পেলেন তৃণমূল নেতা সোহম!
এরই মধ্যে ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো আরও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, উজি ও নিশাকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাড়িতে চলছে খেয়া ও সায়ন্তনের বিয়ের আয়োজন। উজির আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় সন্দেহ হয় ঋষির। সে বারবার ফোন করলেও কোনও উত্তর পায় না। পরে দেখা যায়, যে ঘরে উজি ও নিশা আটকে রয়েছে, সেখানে ধীরে ধীরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। আর সেই সময়ই সামনে আসে দুর্জয়। এরপর আগুনের মধ্যে আটকে পড়ে যায় উজি ও নিশা। ফলে দুই বোন কি সত্যিই বড় বিপদের মুখে পড়তে চলেছে, তা নিয়েই এখন দর্শকদের মধ্যে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
